বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের ফাইনালের দৌড় ক্রমেই জমজমাট হয়ে উঠছে। ঘরের মাঠে বেশ কয়েকটি দলের অপ্রত্যাশিত ফলাফলে শীর্ষ দুইয়ে ওঠার সমীকরণ বদলে গেছে। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সাফল্য এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ যেভাবে এগোচ্ছিল, ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার সেই অগ্রযাত্রায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয় এবং পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিউজিল্যান্ডের উত্থান ফাইনালের লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। বর্তমানে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা—এই ছয়টি দলই গাণিতিকভাবে শীর্ষ দুইয়ে থাকার দৌড়ে বজায় রয়েছে।
আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদকৃত পয়েন্ট তালিকা অনুযায়ী, ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ৭১.৪৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩ নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৬৯.২৩ শতাংশ। চার নম্বরে থাকা ভারতের ঝুলিতে ১১ টেস্ট শেষে রয়েছে ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট। ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরে একধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ; ৭ টেস্টে ৪০ পয়েন্ট ও ৪৭.৬২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের অবস্থান এখন পঞ্চম। পয়েন্ট তালিকায় ৭ নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৩৩.৩৩ শতাংশ হলেও তাদের সামনে এখনও ছটি টেস্ট বাকি থাকায় ফাইনালের আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
ফাইনালের দৌড়ে টিকতে হলে বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটি এখন প্রায় শতভাগ নিখুঁত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বাকি রয়েছে পাঁচটি টেস্ট। এর মধ্যে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুটি এবং ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রয়েছে দুটি টেস্ট। বর্তমানে থাকা ৪০ পয়েন্টের সঙ্গে বাকি পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে পূর্ণ ৬০ পয়েন্ট যোগ করতে পারলে বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট দাঁড়াবে ১০০। সেক্ষেত্রে ১২ ম্যাচ শেষে পয়েন্টের শতকরা হার হবে ৬৯.৪৪ শতাংশ, যা ফাইনালের লড়াইয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে। তবে একটি ড্র বা হারও এই হিসাবকে জটিল করে তুলবে। ঢাকা টেস্টের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও স্বীকার করে বলেছেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পথ আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেল।’ এখন শুধু নিজেদের জয়ই যথেষ্ট নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পয়েন্ট হারানোর অপেক্ষাতেও থাকতে হবে বাংলাদেশকে।
পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের সামনে এখনও আটটি টেস্ট বাকি রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে দুটি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারটি ম্যাচ খেলবে তারা। ছটি ম্যাচের মধ্যে চারটি জেতা কিউইদের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফরটি হবে বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান বেশ সুবিধাজনক; বাকি থাকা সাতটি টেস্টের মধ্যে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভালো ফল করতে পারলে তারা ফাইনালে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও দুটি টেস্ট খেলবে প্রোটিয়ারা।
কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি ভারতও। চার নম্বরে থাকা ভারতের বাকি সাতটি টেস্টের দুটি হবে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এবং পাঁচটি ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হার এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি জয় ও একটি ড্র তাদের পথকে সংকুচিত করেছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা যদি পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাকি থাকা ছয়টি টেস্টের সবই জিততে পারে, তবে তাদের পয়েন্ট সর্বোচ্চ ৬৬.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৯ থেকে ১৩ জুন লন্ডনের ওভালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। দুই বছরের লিগ পর্ব শেষে পয়েন্টের শতকরার হিসেবে শীর্ষে থাকা দুই দল শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টে প্রতি জয়ে ১২ পয়েন্ট, ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট এবং টাই হলে ৬ পয়েন্ট দেওয়ার বিধান রয়েছে। সমীকরণ কঠিন হলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জেতার অতীত অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে বাকি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানোর চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের সামনে।





