যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘে তাঁর ভাষণে বিশ্বমঞ্চে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সাফল্যের দাবি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট সংকটের কারণে তাঁর এই ভাষণটি কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষণে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিষয়টি আবারও উঠে আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করবেন, যদিও হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য অর্জনে এই যুদ্ধ এখনো সফল হয়নি। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, সেটিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে। একইসঙ্গে, নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গাজা সংঘাত অবসানে তাঁর বিতর্কিত উদ্যোগের সাফল্য এবং ইসরাইলের সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তিতে আরও আরব দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টার কথাও তিনি উল্লেখ করতে পারেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ড্যানিয়েল ফোর্তি জানিয়েছেন, ট্রাম্প মূলত তাঁর শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী অর্জনগুলোর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করবেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া এই ভাষণটি বিশ্ব সংস্থাটির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিয়মিত সমালোচনার একটি নতুন সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। গত বছর নিউইয়র্কে সদর দপ্তরে এসকেলেটর বিভ্রাট ও টেলিপ্রম্পটারে ত্রুটির ঘটনার পর ট্রাম্প জাতিসংঘের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ করেছিলেন। যদিও গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন জাতিসংঘের বাজেটে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করে ভোটাধিকার হারানোর বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি সংক্রান্ত নিরাপত্তা চুক্তি নিয়েও ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের দাবির বিপরীতে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই সফরসূচিতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রড্রিগেজের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, এসকেলেটর ও টেলিপ্রম্পটার নিয়ে গত বছরের ক্ষোভ এখনো ট্রাম্পের মনে গেঁথে আছে বলে মনে হয়। তবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানিয়েছেন, এসকেলেটরটি বারবার পরীক্ষা করা হয়েছে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের সুবিধার জন্য টেলিপ্রম্পটারের নতুন ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের অধিবেশনটি শুরু করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চলমান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলবেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার ঠিক পরেই ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। লাতিন আমেরিকার বামপন্থী নেতাদের প্রতি ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে লুলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েনও আলোচনার বিষয় হতে পারে।





