ইরানকে চীন বা রাশিয়ার সহায়তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই: ট্রাম্প

Published: October 13, 2026, 10:09 am

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে চীন কিংবা রাশিয়া কোনো ধরনের সহায়তা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, বেইজিং ও মস্কো যদি তেহরানকে সাহায্য করে, তবে তাদের অনেক কিছু হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তার রাজনৈতিক সমালোচক ও বিরোধীরা দাবি করছেন চীন ও রাশিয়া ইরানকে মদদ দিচ্ছে। তবে তিনি নিজে এই দাবি মানতে নারাজ। ট্রাম্প লেখেন, ওই দুটি দেশ যদি সহায়তা করেও থাকে, তা খুবই সীমিত পর্যায়ে। কিন্তু তার বিশ্বাস, তারা মোটেও এমন কিছু করছে না। বিষয়টির সত্যতা খুব শিগগিরই সামনে আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে গত জুলাই মাসেও ট্রাম্প একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মস্কো বা বেইজিং তেহরানের পাশে দাঁড়াবে না বলে তার বিশ্বাস। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, দেশ দুটি যদি সরাসরি এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নেবে। চলমান সংঘাতের মধ্যেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘নিরপেক্ষ’ হিসেবেই বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় ইরান। এর পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ধারাবাহিক অভিযানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা ও রুশ নেতৃত্বকে নিরপেক্ষ ভাবছেন, তেহরানের সঙ্গে বেইজিং ও মস্কোর ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। মস্কো ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, ইরান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরানে মার্কিন হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন।

গত মাসে শি জিনপিং ওয়াশিংটন সফরকালে ট্রাম্প তাকে ইরানকে সহায়তা না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত পরবর্তীতে জানান, সে সময় চীন ইরানকে কোনো সহায়তা দেবে না বলে মার্কিন প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছিল। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করেছে এবং চীনা সহযোগিতায় তেল বিক্রির মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছে তেহরান।

এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণের আগে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওই ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করেছিল ইরান। জুলাইয়ের এক হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও সে সময় প্রকাশিত এই সংক্রান্ত খবরের গুরুত্ব খারিজ করে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy