ইউক্রেন সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এক সাংবাদিককে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক মনোভাব ও যুদ্ধের হুমকির কড়া সমালোচনা করে তাদের আচরণকে বাস্তবতাহীন বা 'রাজনৈতিক সিজোফ্রেনিয়া' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
চলমান সংঘাতের অবসানে মার্কিন মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে। পুতিনের জ্যেষ্ঠ সহকারী ইউরি উশাকভ পূর্বেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, আগামী ১০ নভেম্বরের পর রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক আগের দিন নরওয়েতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে একটি বৈঠক করেন উইটকফ। অসলোতে অনুষ্ঠিত সেই ফলপ্রসূ আলোচনার প্রস্তাবনাগুলোই ছিল পুতিন-উইটকফ বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রক্রিয়া নিয়ে পুতিন জানান, মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ বা বৈঠক পুনরায় শুরু করতে রাশিয়া পুরোপুরি সম্মত ও প্রস্তুত রয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধের মনোভাব প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত চায় না, আর রাশিয়াও ইউরোপের সাথে কোনো যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ কর্তৃক 'রুশ আক্রমণের' ভয় দেখানোকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং তথাকথিত 'রুশ হুমকির' যে জুজু দেখানো হচ্ছে, তা মূলত রাজনৈতিক সিজোফ্রেনিয়ারই নামান্তর। রাশিয়াকে সামরিকভাবে পরাজিত করা যে কখনোই সম্ভব নয় তা এখন স্পষ্ট। অতীতে যারা রাশিয়াকে পরাস্ত করতে চেয়েছিল কিংবা বর্তমানে যারা সেই চেষ্টা করছে, তারা সবাই একসময় বুঝতে বাধ্য হবে যে রাশিয়ার সঙ্গে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্কের চেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই অধিক শ্রেয়।
সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় জনগণকে 'ভ্রাতৃপ্রতীম জাতি' বলে উল্লেখ করেন পুতিন। তিনি সাম্প্রতিক জেনেটিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে দাবি করেন, রুশ ও ইউক্রেনীয়রা প্রকৃতপক্ষে একই জাতির অংশ। তবে কিয়েভের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে পুতিন অভিযোগ করেন, ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকার নিজেদের নাগরিকদের স্রেফ 'কামানের খাদ্য' হিসেবে ব্যবহার করছে। রাস্তাঘাট থেকে সাধারণ মানুষদের তুলে নিয়ে জোরপূর্বক সম্মুখসমরে পাঠানো হচ্ছে, অথচ যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করার মতো কোনো মানসিক অনুপ্রেরণা তাদের নেই।





