রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন। রোববার রাতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমে রেললাইন অবরোধ করেন এবং পরে স্টেশন ঘেরাও করে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তিনি সরকারের কাছে দেশের প্রশাসন ও আইনকে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি আহত শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষীদের প্রকাশ্যে এনে দ্রুত শাস্তির দাবি করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা তার অনুরোধে অবরোধ তুলে নিয়েছেন এবং তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডদের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজশাহীর বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দিন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদাত হোসেন। তাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে হাজিরা দিতে হবে।





