পাঁচ শতাধিক সরকারি-বেসরকারি ওয়েবসাইট পিএইচপি ত্রুটির ঝুঁকিতে

Published: October 28, 2026, 3:24 am

পিএইচপি (হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর) প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে নতুন একটি নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর দেশের পাঁচ শতাধিক ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো ওয়েবসাইট এই তালিকায় রয়েছে। সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট বিষয়টি নিশ্চিত করে সতর্কবার্তা জারি করেছে।

সার্টের সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নজরদারিতে উঠে এসেছে যে, অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো পিএইচপির পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার করছে। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও এসব ওয়েবসাইট হালনাগাদ করা হয়নি। এই ত্রুটি মূলত পিএইচপির সেশন ব্যবস্থাপনা এবং ফাইল আপলোডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের একটি বিশেষ ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলাকারীরা সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা চালানোর সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালিফ’ ও ‘উইজ’-এর গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় গত সপ্তাহে এই দুটি ত্রুটি শনাক্ত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিএইচপির উন্নয়নকারী দল ২১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে জরুরি সিকিউরিটি আপডেট প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ২৩ অক্টোবর আরও একটি ত্রুটি শনাক্তের কথা জানানো হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট পিএইচপি ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে পরিচালিত হয়, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।

সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার জানিয়েছেন, বর্তমানে যে সংখ্যক ওয়েবসাইট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। সার্ট এ বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পিএইচপির ‘সেশন আপলোড প্রগ্রেস’ সুবিধা সাময়িক বন্ধ রাখা, সার্ভারের প্রয়োজনীয় সেবা পুনঃচালনা, সফটওয়্যারের বিন্যাস পরীক্ষা করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি রাখা।

তবে শুধুমাত্র সতর্কবার্তা দেওয়াই যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। বেসরকারি হোস্টিং কোম্পানির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) জুনায়েদ মিয়াজী বলেন, অনেকে ওয়েবসাইট সচল থাকলেই সেটিকে নিরাপদ মনে করেন, যা ভুল ধারণা। নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ ও নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনে গাফিলতি নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন, শুধু দায়িত্ব নির্ধারণ করলেই হবে না, প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা মানদণ্ড ঠিকমতো অনুসরণ করছে কি না, তা যাচাইয়ের একটি কার্যকর কাঠামো জাতীয় পর্যায়ে থাকা জরুরি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo