কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসহ আটক হওয়া তিনজনকে কোনো শাস্তি না দিয়ে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের বিরুদ্ধে। একই অভিযানে আটক আরেকজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করার ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের এই দ্বিমুখী ভূমিকা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মাদক সেবন ও সঙ্গে রাখার অভিযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট আটজনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে চারজনকে পরবর্তী সময়ে কিশোরগঞ্জের আদালতে পাঠানো হয় এবং বাকি চারজনকে মোবাইল কোর্টে হাজির করা হয়।
অভিযানকালে পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে সিয়াম (১৮) এবং লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাফি মিয়ার ছেলে সানিকে (২৭) প্রায় ৫০০ গ্রাম মদ ও বোতলসহ মাদকাসক্ত অবস্থায় আটক করে পুলিশ। মোবাইল কোর্টে হাজির করার পর তারা মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন। এরপর জনসম্মুখে উদ্ধারকৃত মদ ধ্বংস করা হলেও তাদের কোনো সাজা না দিয়ে কেবল মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ১১ পিস ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক হন ইসমাইল মিয়া (৫০) ও তাঁর স্ত্রী বকুলা বেগম (৩৫)। বকুলা বেগমকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হলেও তাঁর স্বামী ইসমাইল মিয়াকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বকুলা বেগম লক্ষ্মীপুর গ্রামের সেনু মিয়ার মেয়ে।
একই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমন ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মনে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, মাদক সেবনের কথা স্বীকার করার পরও সিয়াম ও সানিকে কেন মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হলো, অথচ ইসমাইল মিয়াকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো। একই সাথে ইসমাইলের স্ত্রী বকুলা বেগমকে ছেড়ে দেওয়ার আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এলাকার দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা মাদকের বিস্তার রোধে এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত অভিযানের কার্যকারিতাকে প্রশ্নбиদ্ধ করছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
আইনগত বিষয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭ (২) ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করলে তাঁর স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করে উপযুক্ত দণ্ড আরোপের লিখিত আদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। আর ৭ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে। ফলে মাদক সেবনের অপরাধ স্বীকার করার পরও সিয়াম ও সানিকে কোন আইনের অধীনে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে আইনি অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও ব্যক্তিগত মোবাইলে শুক্রবার একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।





