সঙ্গীর নাক ডাকার অভ্যাস যেভাবে আপনার সুস্থতায় প্রভাব ফেলে

Published: September 17, 2026, 6:31 am

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ২১

সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকের জন্যই এক সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। সকালে ক্লান্ত শরীর, কাজে মনোযোগের অভাব এবং খিটখিটে মেজাজের পেছনে এটি একটি বড় কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, কেবল রাতের ঘুম নষ্ট হওয়া নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের ব্যাঘাত মানুষের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, মেজাজ এবং সামগ্রিক সুস্থতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটিশ স্নোরিং অ্যান্ড স্লিপ অ্যাপনিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএসএএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নাক ডাকেন এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্লিপ ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, যাদের সঙ্গী নাক ডাকেন, তাদের ৭৫ শতাংশই স্বীকার করেছেন যে এতে তাদের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

দন্তচিকিৎসক ও ডেন্টাল স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ক্লেয়ার সাইমন ব্যাখ্যা করেছেন যে, ঘুমের সময় ঊর্ধ্ব শ্বাসনালির নরম টিস্যুতে কম্পন তৈরির ফলে নাক ডাকার শব্দ সৃষ্টি হয়। অ্যারোক্স হেলথের পরামর্শক অধ্যাপক আমা জোহাল জানান, সঙ্গীর নাক ডাকার প্রভাব এতটাই প্রকট হতে পারে যে অনেক দম্পতিকে আলাদা ঘরে ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধারমূলক ঘুম না হলে মানুষের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘুমের বিভিন্ন চক্রের মধ্যে গভীর ঘুমের ধাপগুলো শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু বারবার ঘুম ভেঙে গেলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

মস্তিষ্ক ঘুমের সময় তথ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করে, যা নাক ডাকার কারণে বারবার ঘুম ভাঙলে বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ওপর প্রভাব পড়ে। এছাড়া ঘুমের ব্যাঘাত হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা শক্তির মাত্রা এবং কাজের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। ২৯ বছর বয়সি মেগ ওয়ারেন এবং ৫২ বছর বয়সি সাংবাদিক আনা-লুইজ ডিয়ার্ডেন তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানিয়েছেন, সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে তাদের ঘুমের মান কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেগ জানান, তিনি নিজেকে সবসময় সতর্ক অবস্থায় অনুভব করতেন এবং সকালে তার মধ্যে অতিরিক্ত মদ্যপানের মতো ঝিমঝিম ভাব হতো। আনা-লুইজ ইয়ারপ্লাগ ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্যা কিছুটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাক ডাকার বিষয়টিকে নিছক বিরক্তি হিসেবে না দেখে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ক্লেয়ার সাইমন ও আমা জোহাল পরামর্শ দিয়েছেন যে, সমস্যাটি সাধারণ নাক ডাকা নাকি স্লিপ অ্যাপনিয়া, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁসফাঁস করা এবং সকালে মাথাব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, যার জন্য সিপিএপি মেশিন বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণ নাক ডাকার ক্ষেত্রে ওজন কমানো, ধূমপান বর্জন, অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ এবং চিৎ হয়ে না শুয়ে কাত হয়ে শোয়ার মতো জীবনযাত্রার পরিবর্তন সহায়ক হতে পারে। এছাড়া প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে মাউথগার্ড ব্যবহারের কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন এই সমস্যা সহ্য করলে তা কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নয়, বরং সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেন তারা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh