ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে ফের সংঘর্ষ, আটক ৩৬০

Published: November 8, 2026, 9:13 am

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সামাজিক দাবিতে ফ্রান্সে হাজার হাজার মানুষ আবারও রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশজুড়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী প্যারিসসহ একাধিক প্রধান শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফ্রান্স সরকার দেশব্যাপী ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমারি সদস্য মোতায়েন করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ধ্যা ৭টার হিসাব অনুযায়ী, দিনভর বিক্ষোভ ও অস্থিরতার ঘটনায় অন্তত ৩৬০ জনকে আটক করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও আন্দোলনকারীদের হিসাবের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, শনিবার সারা দেশে ১৪১টি কর্মসূচিতে ১ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ অংশ নেন, যার মধ্যে প্যারিসে আন্দোলনকারীর সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার। অন্যদিকে, শিক্ষার্থী ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত আন্দোলনকারী জোট দাবি করেছে, সারা দেশে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার এবং কেবল প্যারিসেই ৭৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। শৃঙ্খলা রক্ষায় সড়ক ও রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে প্রতিরোধমূলক তল্লাশি করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় ২৫টি সাঁজোয়া যান এবং ১৫টি জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

প্যারিসে প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত নির্ধারিত পথে মিছিলটি শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। তবে মিছিলের শেষভাগে নাসিওঁ চত্বরে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপ করলে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে জবাব দেয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একজনকে আটক করার সময় অন্তত ২০০ জনের একটি সহিংস দল পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয়।

এর পাশাপাশি, প্যারিসের প্লাস দ্য লা কনকর্দ এলাকায় ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের একটি অংশ পৃথক সমাবেশের চেষ্টা করলেও কর্তৃপক্ষ আগেই তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অনুমতি ছাড়া জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের পুলিশ ঘেরাও করে ফেলে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নিষিদ্ধ সমাবেশ থেকে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক বেঞ্জামিন বল এবং মুখপাত্র আজেলমা সিগোকে আটক করা হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিয়োঁতেও অনুমতিহীন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শহরের কেন্দ্রস্থলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে কয়েক শত মানুষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তুলুজ, গ্রেনোবল, মার্সেই, নঁত, বোর্দো, স্ত্রাসবুর্গ ও দিজোঁর মতো বড় শহরগুলোতেও সংঘাত ও উত্তেজনা ছড়ানোর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামগ্রিক বিচারে গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় শনিবারের বিক্ষোভে জনসমাগম কিছুটা কম ছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর ৫ লাখ ৫০ হাজার, ২৪ অক্টোবর ৪ লাখ ১০ হাজার এবং ৩১ অক্টোবর ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। এছাড়া ৫ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকা জাতীয় কর্মসূচিতে সরকার ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা জানালেও সংগঠনগুলো দাবি করেছিল ১৬ লাখের।

চলমান এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। মূলত উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষকস্বল্পতা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ যুক্ত হলে তা দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বেতন বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে ফরাসিরা এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin