বার্সেলোনা সমর্থকদের সমালোচনার পাত্র থেকে রাতারাতি জাতীয় নায়কে পরিণত হয়েছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। বিশ্বকাপের ফাইনালে এমি মার্তিনেজের ওপর দিয়ে নেওয়া সেই চোখধাঁধানো ভলি তোরেসের ক্যারিয়ারের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। মাত্র ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে পিএসজিতে যোগ দিয়ে এখন তিনি খেলছেন স্বপ্নের মতো এক মৌসুম, লড়াই করছেন ব্যালন ডি’অরের জন্য। অথচ কিছুদিন আগেও তোরেসের সময়টা ছিল খুবই কঠিন।
ভ্যালেন্সিয়ার একাডেমি থেকে উঠে এসে মাত্র ১৭ বছর বয়সে দলের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এরপর ম্যানচেস্টার সিটি ঘুরে বার্সেলোনায় যোগ দিলেও নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারছিলেন না। পেপ গার্দিওলার অধীনে যেমন নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি, তেমনি বার্সেলোনায় পাঁচ মৌসুমে ২০৭ ম্যাচে ৬৫ গোল করার পরও সমর্থকদের মন জয় করতে ব্যর্থ হন। লা মাসিয়ার ফুটবলারদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় ছোটখাটো ভুলের জন্যও তাঁকে প্রতিনিয়ত কটুবাক্য শুনতে হতো।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্রয়ের পর সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে তোরেসের একটি গোল ভিএআরের কারণে অফসাইডে বাতিল হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচের পর একাদশে জায়গা হারিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে কেবল একটি অ্যাসিস্ট নিয়ে ফাইনালে পৌঁছান তিনি। তবে ফাইনালে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর ওপর আস্থা রেখে ৬২ মিনিটে মাঠে নামান। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে তোরেসের করা ঐতিহাসিক সেই ভলিতেই স্পেনের ১৬ বছরের বিশ্বজয়ের অপেক্ষা শেষ হয়। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পর বার্সেলোনার আরেক খেলোয়াড় হিসেবে স্পেনের বিশ্বজয়ের নায়ক হন তিনি।
এই একটি গোল তোরেসের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দলবদলের বাজারও গরম করে তোলে। বার্সেলোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে তাঁকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী হন। ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর তোরেসের পারফরম্যান্স এখন আকাশচুম্বী। নতুন ক্লাবের হয়ে ৪ ম্যাচে ইতিমধ্যে ৫ গোল করেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে স্লোভেনিয়ার ক্লাবের বিপক্ষে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক। একসময়ের সমালোচিত তোরেস এখন পিএসজির অন্যতম বড় ভরসা।





