রমজানের আগে দুই হাজার ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির

Published: October 1, 2026, 11:45 am

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ১৮ আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ২৮। আগামী বছরের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে এই নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হলে রমজান মাসের আগেই তিনটি স্লটে দুই হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নির্বাচনের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পাবলিক পরীক্ষা থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে নির্বাচন শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রমজানের পর এসএসসি পরীক্ষা থাকায় সেই সময়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী ধাপের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং জুন মাসের মধ্যে সকল ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে ইসির। ইউনিয়ন পরিষদের পরপরই পৌরসভা নির্বাচন করার পরিকল্পনাও কমিশনের রয়েছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়ে ইসি মাছউদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো ইউপি নির্বাচনও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার শতভাগ প্রচেষ্টা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আপাতত সেনাবাহিনীকে ডাকার প্রয়োজন নেই, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টিতে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে তিনি এই তথ্য জানান। ইসি আগামী ৬ জুনের আগেই স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারও একই টাইমলাইনের কথা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ইসি সম্প্রতি ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা’, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য পদে ২ লাখ টাকা সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে বাধা প্রদান বা হুমকি দিলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে এবং সমান ভোট পেলে পুনঃভোট গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh