পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা ও উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে। ভক্তরা অশ্রুসজল চোখে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান।
রাজধানীর পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে বিকেলে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুপুর থেকেই ঢাকঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্য ও শোভাযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে ভক্তরা প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলে জড়ো হন। পরে নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় বিসর্জনস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক ভক্ত দেবীর কাছে মঙ্গল কামনার পাশাপাশি নদীর পবিত্র পানি নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নেন।
বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শোভাযাত্রা ও বিসর্জনস্থলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সোয়াট ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও বিসর্জনস্থলে নিয়োজিত ছিল।
চট্টগ্রাম নগরেও একই দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। বিকেল ৩টা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে মূল আয়োজন শুরু হয়। এছাড়া অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জিত ট্রাকে করে ভক্তরা প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতে আসেন। বিদায়ের আগে প্রতিমায় তেল, সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিবেদন করেন ভক্তরা। ঢাকের তালে নাচ-গান ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জনস্থল। বিদায়ের মুহূর্তে অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু।
চট্টগ্রামসহ সারাদেশের নির্ধারিত ঘাটগুলোতে সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন সম্পন্ন করতে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পতেঙ্গা সৈকত ও আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি ৩ দিন করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যোগ হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি পাওয়া গেছে। দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষকেও একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।





