কুমিল্লায় ৬ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে আটক ৩৫১, মুচলেকায় মুক্তি ২১৯ জনের

Published: October 30, 2026, 8:45 am

কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের দমনে একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টার এই অভিযানে মোট ৩৫১ জনকে আটক করা হয়। শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা প্রদানের শর্তে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে জেলার ১৮টি থানা এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সকল ইউনিট অংশগ্রহণ করে। পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি এই কার্যক্রম তদারকি করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক ও অন্যান্য অপরাধের তথ্য এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। মুচলেকায় মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদেরও পুলিশি নজরদারিতে রাখা হবে।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী তৎপরতা জোরদার করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজের পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই কিশোরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তদন্তে তাদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলায় বিশেষ অভিযান শুরু করে পুলিশ। জেলা পুলিশের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা দুই রাতের অভিযানে ৪৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২৩ অক্টোবর ২৭৫ জন আটক হন। ২২ অক্টোবর আটক করা হয়েছিল ১৭৫ জনকে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।.‘পিএক্স ১০’ ও ‘১২০৭’ নামে দুটি কিশোর গ্যাং কুমিল্লার দুই উপজেলায় তৎপর.এর আগে ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা দুই রাতের অভিযানে ৪৫০ জনকে আটক করেছিল পুলিশ।

তাঁদের ১৪২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo