পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দুটি আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থীরা। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে হাসি রানী রথ এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে শাখারভ সরকার বিজয়ী হয়েছেন। শুক্রবার এই দুই আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সংখ্যালঘু ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকা এই দুই আসনে বিজেপির জয় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির হাসি রানী রথ ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের মিলন প্রধান। এই আসনে কংগ্রেস দ্বিতীয়, বামফ্রন্ট তৃতীয়, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) চতুর্থ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র কর পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৬ ভোট। সেবার শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের ব্যবধান ছিল ৯ হাজার ৬৬৫ ভোট। উপনির্বাচনে সেই ব্যবধান অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, রেজিনগর আসনে বিজেপির শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ। এছাড়া কংগ্রেস তৃতীয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থ, বামফ্রন্ট পঞ্চম এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। আগের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। সে সময় বিজেপির বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন ৬৪,৬৬০ ভোট। অর্থাৎ, আগের নির্বাচনে ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটের ব্যবধানে হারা আসনটিতে এবার বিজেপির জয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুটি আসনেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম ভোটারের বসবাস রয়েছে। রেজিনগরে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে প্রায় ৩০ শতাংশ। এই সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন পাওয়ার দাবি করেছেন বিজেপি নেতারা। তাঁদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশ এলাকার উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
তবে এই উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, আইএসএফ এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি আগে থেকেই ভোট লুটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। তাদের অভিযোগ, বিজেপি ভোটারদের ভোটদানে বাধা দিয়ে এবং অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে এই জয় পেয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।





