ব্যাংক সংস্কার আটকে অলিগার্কদের সুবিধা দিচ্ছে সরকার: হাসনাত আব্দুল্লাহ

Published: October 4, 2026, 10:11 am

সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার ব্যাংক খাতের সংস্কার আটকে দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অলিগার্ক বা প্রভাবশালী পরিবারগুলোর আধিপত্য বজায় রাখার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে ব্যাংক খাতের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকগুলোকে পারিবারিক সম্পত্তি হওয়া থেকে রক্ষা করতে অতীতে নিয়ম ছিল যে, এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন পরিচালক হতে পারবেন এবং কোনো পরিচালক টানা ছয় বছরের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসন আমলে তার অনুগত অলিগার্কদের ব্যাংক দখলের সুবিধা দিতে এই আইন পরিবর্তন করা হয়। ২০১৮ সালে পরিচালকদের মেয়াদ বাড়িয়ে ৯ বছর এবং এক পরিবারের চারজনকে পর্ষদে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে পরিবারের সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ৩ জন করা হলেও মেয়াদ বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়েছিল।

সে সময় এই নিয়মের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর আহসান মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার নেতৃত্বে ব্যাংক সংস্কারের অংশ হিসেবে আবারও আগের মতো এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন পরিচালক এবং টানা সর্বোচ্চ ৬ বছর মেয়াদের প্রস্তাব করা হয়েছিল। একই সঙ্গে পর্ষদের অন্তত ৫০ শতাংশ স্বাধীন পরিচালক রাখার এবং পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের দায় পরিচালকের ওপর বর্তানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আহসান মনসুরকে মব বা হেনস্তা করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার স্থলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী করা হয় আরেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আমির খসরুকে。

বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে এক পরিবারের ৩ জন সদস্যকে ব্যাংকের পরিচালক থাকার সুযোগ দিতে চাচ্ছে এবং মেয়াদ ৬ বছরের পরিবর্তে ৯ বছর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি পরিচালকদের প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের বিষয়টি বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং খেলাপি ঋণের কারণে পদ হারানোর পর পুনরায় পর্ষদে ফেরার সময়সীমা ১ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র ৬ মাস করার প্রক্রিয়া চলছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে, হাসিনা আমলে যে নিয়মগুলো অলিগার্ক পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিয়েছিল, বিএনপি সরকার এখন সেগুলোই আবার ফিরিয়ে আনছে। এর ফলে আহসান মনসুর ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে চলেছে। তিনি বলেন, ব্যাংক চলে জনগণের আমানতের টাকায়, এটি কোনো পরিবারের জমিদারি নয়। কিন্তু সংস্কার বাতিল করে বিএনপি চাচ্ছে ব্যাংকের জমিদারিগুলো আওয়ামী অলিগার্কদের হাত থেকে নিয়ে বিএনপির বা নব্য বিএনপির অলিগার্কদের হাতে তুলে দিতে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy