প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ বিশ্বব্যাংকের

Published: November 7, 2026, 11:51 am

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিশুদের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ এই অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করে। ঋণটির মেয়াদ ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে ছাড়ের সময় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অর্থায়ন মূলত সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শিশুদের শ্রেণি অনুযায়ী পড়া, লেখা ও গণিতে মৌলিক দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা। বর্তমানে দেশের ১০ বছর বয়সী প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু বয়সোপযোগী সহজ কোনো লেখা পড়ে বুঝতে অক্ষম। তুলনামূলক চিত্র হিসেবে মালয়েশিয়ায় এই হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি গড়ে তোলার ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। এই নতুন অর্থায়ন শিশুদের শেখার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করবে, যা ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ২ কোটির বেশি শিশু পড়াশোনা করছে। এই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের সাক্ষরতা ও গণিতের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ চালু করা হবে, যেখানে শিক্ষণ উপকরণ, সুনির্দিষ্ট পাঠপরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ প্রধান শিক্ষককে নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কর্মসূচিটির দলনেতা ও বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ তাশমিনা রহমান জানান, উন্নত কর্মসংস্থানের জন্য শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী করা অপরিহার্য। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য এই কর্মসূচিতে অতিরিক্ত শিক্ষা সহায়তা দেয়া হবে এবং যেসব এলাকায় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে, সেখানে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাজেটের জবাবদিহিমূলক ব্যবহার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্য-উপাত্তের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করা হবে। বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা, এই কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই অর্থায়ন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin