গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে বিপুল শ্রদ্ধাবোধ ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল রউফ সরকারের কুলখানি এবং বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও জামে মসজিদে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রিয় মানুষটিকে স্মরণ করতে ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় খিলগাঁওয়ে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। স্বজন, সহযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ আল হারুন। মোনাজাতের আগে ও পরে উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধার অবদান, দেশপ্রেম এবং সমাজের মানুষের প্রতি তাঁর নিবেদিত ভালোবাসার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। মোনাজাত শেষে মরহুমের কবর জিয়াত ও গণভোজের আয়োজন করা হয়, যাতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এই কুলখানি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রেল ও সড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এবং গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। এছাড়াও অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া।
স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, পূবাইল থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রউফ সরকার ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর একান্ত সচিব আবু বকর সরকারের বাবা।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগার পর গত ২১ জুলাই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রউফ সরকার। ওই দিনই ২১ জুলাই বিকেলে খিলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর প্রয়াণে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া বজায় রয়েছে।





