ফ্লোরিডায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, পাইলটের শেষ আর্তনাদ ‘আমরা বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি’

Published: November 2, 2026, 6:53 am

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকায় গত রোববার ৯ জন আরোহী নিয়ে একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশের বাড়িঘর থেকে সামান্য দূরে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, লিয়ারজেট ৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে পাম বিচ কাউন্টিতে বিধ্বস্ত হয়। তিনি এই ঘটনাকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

লিয়ারজেট ৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দুর্ঘটনার সময় ওই অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং সোমবার বিকেল পর্যন্ত বন্যা সতর্কতা জারি ছিল। ৪৫ হাজার বাসিন্দার এই শহরটি ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে প্রায় ৭ মাইল (১১ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। উড়োজাহাজটি ৩৫ হাজার ফুট (প্রায় ১১ কিলোমিটার) ওপর দিয়ে পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় পাইলটরা খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি, বরফ জমা ও বৃষ্টির কথা জানান। এ সময় তাঁরা ২ হাজার ফুট ওপরে ওঠার অনুমতি প্রার্থনা করেন।

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পাইলট জানান, উড়োজাহাজে স্বচ্ছ বরফ জমছে এবং মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি হচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। পাইলট রেডিওতে বলেন, ‘আমরা ৮ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছি—মেডে, মেডে (বিপদসংকেত), আমরা প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট নিচে নামছি।’ পাইলট রেডিওতে আরও বলেন, ‘আমাদের গতিসীমা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে এবং আমরা মাটিতে আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি।’

দুর্ঘটনাস্থলে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে এবং আগুনের শিখা জ্বলছিল। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সাংবাদিকদের জানান, উড়োজাহাজটি যেন আকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নিচে নেমে এসেছিল। তবে উড়োজাহাজের বাইরে নিচে থাকা কোনো স্থানীয় বাসিন্দার হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফেডারেল বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের তদন্তে সহায়তা করতে একটি দল পাঠাচ্ছে।

পাম বিচ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে পাশের একটি ট্রেইলার পার্ক এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়েছে। অস্টিন-বার্গস্ট্রম বিমানবন্দরের মুখপাত্র জিম রেনল্ডস নিশ্চিত করেছেন যে উড়োজাহাজটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ছিল। বর্তমানে ফেডারেল কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থলের পাশের সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

তাঁরা আরও ২ হাজার ফুট (প্রায় ৬১০ মিটার) ওপরে ওঠার অনুরোধ জানান।এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিও রেকর্ডিং এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এর কিছুক্ষণ পরেই উড়োজাহাজটি দ্রুত গতিতে নিচে নামতে শুরু করে।

এর ফলে উড়োজাহাজটি প্রায় ৭০০ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছিল।পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের বলেন, ‘আমাদের উড়োজাহাজে কিছুটা স্বচ্ছ বরফ জমছে, যা নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি হচ্ছে।’কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo