১২ কেজি এলপিজির দাম ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ বিইআরসির

Published: October 30, 2026, 2:44 am

বারো কেজি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম ৭.৫৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। বৃহস্পতিবার বিইআরসি আয়োজিত দিনব্যাপী এক গণশুনানিতে এই সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা দাম ২১.৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২,২৩২ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। বিইআরসি আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। চলতি অক্টোবরের শুরুতে কমিশন দাম ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার ২,১০০ থেকে ২,৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে আয়োজিত এই শুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ। এ সময় কমিশনের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান এবং সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ারসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব), বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, সাসটেইনেবল এনার্জি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন্স (সেরা), এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ক্যাব) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ জানান, সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী মূল্য এবং ব্যবসায়ীদের লোকসান এড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে কমিশন। তিনি আরও বলেন, আগামী মাসের ১ বা ২ তারিখের মধ্যে নতুন দাম ঘোষণার চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া ব্যাংকিং সংকটের কারণে আমদানিকারকদের এলসি খুলতে সমস্যা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শুনানিতে এলপিজি সিলিন্ডারের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে। বিভিন্ন কোম্পানি ১২ কেজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭৮ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রেখেছে। একই সঙ্গে পরিবেশকরা কমিশন ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ থেকে ৭০ টাকা করার আবেদন জানিয়েছেন।

শুনানির শেষ পর্যায়ে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ‘মাফিয়া’ অভিহিত করাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এফবিসিসিআই সদস্য শাহ আলম সরকার ব্যবসায়ীদের মাফিয়া হিসেবে উল্লেখ করলে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ তাতে আপত্তি জানান। তিনি শাহ আলমকে বলেন, ‘আপনি তাদের মাফিয়া বলতে পারেন না।’ এর প্রতিবাদে শাহ আলম বলেন, ‘পত্রিকাগুলো তাদের অহরহ মাফিয়া বলছে। ১,৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাদের মাফিয়া বলব না, তো কী বলব?’ এ সময় সাধারণ শ্রোতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষে ওকালতির অভিযোগ তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কমিশনকে হিমশিম খেতে হয়।

অন্যদিকে, অর্থনীতি সমিতির প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান শুনানি বয়কট করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচটি এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং কমিশনের জবাবদিহি দাবি করেন। তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিবাদে শুনানি বয়কটের ঘোষণা দেন।

আগের মতোই মাসের প্রথম সপ্তাহে মূল্য ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, যাতে ১-২ তারিখে মূল্য ঘোষণা করতে পারি। এজন্য সবপক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করব। যেসব আমদানিকারক ব্যাংকিং সমস্যার কারণে এলসি খুলতে পারছেন না, তারা যাতে দ্রুত এলসি খুলতে পারেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে আমরা সে ব্যবস্থা করব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh