বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় কিশোরের জামিন মঞ্জুর

Published: October 29, 2026, 6:28 pm

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে বিশ্রামরত অবস্থায় গাড়িচাপায় এক নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশু আইন, ২০১৩-এর ৩৪ ধারার বিধান অনুযায়ী অভিযুক্ত দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের আটকাদেশ হতে পারে। অভিযুক্ত কিশোর গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১ মাস ৫ দিন যাবৎ আটক রয়েছে। টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালক) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কেন্দ্রটিতে ৩০০ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে ১ হাজার ১৯ জন শিশু রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুটির প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন ও চিকিৎসা নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর ওই কিশোরের তীব্র জ্বর ও বমি শুরু হলে তাকে প্রথমে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া তার অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, মাথায় আঘাতজনিত ক্ষত, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং শ্রবণশক্তি হারানোর মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে। তার রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ৪ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং সিরাম বিলিরুবিনের মাত্রা ৫ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার পাওয়া গেছে, যা কিডনি ও যকৃতের গুরুতর ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থানকালে কিশোরটির শৃঙ্খলাবোধ ও আচার-ব্যবহার সন্তোষজনক ছিল। এছাড়া তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টিও জামিন আদেশে গুরুত্ব পেয়েছে। মানবিক কারণে এবং তার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় পিতা ও একজন আইনজীবীর জিম্মায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির প্রাইভেট কারের চাকায় পিষ্ট হয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের বাসিন্দা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেন নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের 'ও' লেভেলের শিক্ষার্থী এবং তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। ঘটনার পর তাকে প্রথমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে পুলিশ।

জামিন শুনানিতে কিশোরের আইনজীবী দাবি করেন, দুর্ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা তাকে বেধড়ক মারধর করেছিল এবং আটকাবস্থায় তার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন জামিনের বিরোধিতা করলেও আদালত নথি যাচাই করে জামিন মঞ্জুর করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo