জুলাইয়ে যাত্রী নিয়ে কমলাপুর পর্যন্ত চালু হতে পারে মেট্রোরেল

Published: October 26, 2026, 6:40 am

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সোহেল রানা দুর্গাপূজার ছুটিতে ট্রেনে করে গ্রামের বাড়ি মোহনগঞ্জ যাচ্ছিলেন। ফার্মগেট থেকে মেট্রোরেলে মতিঝিল নেমে তাকে ৪০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশায় কমলাপুর রেলস্টেশনে যেতে হয়েছে। অথচ ফার্মগেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল ভাড়া মাত্র ২৮ টাকা। সোহেল রানার মতো যাত্রীরা মনে করছেন, কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে সময় ও খরচ উভয়ই কম লাগত।

ঢাকার যানজট কমাতে ২০১২ সালে মেট্রোরেল প্রকল্প নেওয়া হয়, যার নির্মাণ ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর প্রায় ৫৯ শতাংশ অর্থায়ন করেছে জাইকা। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এবং পরের বছরের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হয়। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সম্প্রসারিত অংশের কাজ বর্তমানে চলমান।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালানো হবে। এরপর জুলাইয়ের শুরুতে যাত্রী নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব জানান, মতিঝিল-কমলাপুর অংশের অবকাঠামো নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। ঠিকাদারের সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও তিন মাস আগেই কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশে লাইন বসানো ও বৈদ্যুতিক কাজ চলছে। প্রকৌশলীদের তথ্যমতে, লাইন বসানোর কাজ ৩০ শতাংশ এবং বিদ্যুতের কাজ ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ এসব কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে স্টেশনের ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থাসহ কিছু যন্ত্র জাপান থেকে আসতে দেরি হতে পারে। কমলাপুর স্টেশনে লিফট লাগানো, সংকেতব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্রপাতি, টাইলস ও পানির পাম্প বসানোর কাজ এখনো বাকি। এক প্রকৌশলী জানান, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জুলাইয়ে মেট্রো চলাচল শুরু হতে পারে, এতে সমস্যা হবে না।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের ভৌত কাজ করছে থাইল্যান্ডভিত্তিক ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি। ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজের জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসন অ্যান্ড ট্যুবরোকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে এই কাজের জন্য ৬৫১ কোটি টাকা দর প্রস্তাব করা হলেও, অন্তর্বর্তী সরকার দর-কষাকষি করে ব্যয় ১৮৬ কোটি টাকা কমিয়ে ৪৬৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনে।

ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত মেট্রোরেলে মোট ৩১ কোটি ৩৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। বর্তমানে দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা সাড়ে চার লাখের ওপর। প্রকল্প নেওয়ার সময় উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দৈনিক পাঁচ লাখ যাত্রী হওয়ার প্রাক্কলন ছিল, যা বর্তমানের কাছাকাছি। কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশ চালু হলে দৈনিক যাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশন দিয়ে আগে শুধু উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের ট্রেন চলত, কিন্তু পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেন বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল চালু হলে বাড়তি যাত্রী পাওয়া যাবে এবং সড়কের ওপর চাপ কমবে। বিনিয়োগ দ্রুত তুলে আনতে যাত্রী চাহিদার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার জরুরি।

পরের বছরের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হয়।২০২৫ সালের জুনে মতিঝিল–কমলাপুর অংশ চালুর সিদ্ধান্ত ছিল।

১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দূরত্বের এই সম্প্রসারিত অংশে উড়ালসড়ক ও কমলাপুর স্টেশন নির্মাণকাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৩ সালে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo