দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) জারি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে এটি ছাপার কাজ চলছে এবং দুপুরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হতে পারে।
চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন এই কাঠামো এককালীন নয়, বরং মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া মূল বেতন ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে সমন্বয় করা হবে এবং অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
নতুন এই কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:১.৭৮।
বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য আইবাস++ সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও বেতন ফিক্সেশনের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেনশনের স্তর সমন্বয়ের প্রক্রিয়াও চলমান। নতুন কাঠামোয় প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা এবং সকল গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পেনশনভোগীদের জন্য নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে মূল গেজেটের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ থেকে ৭টি পৃথক এসআরও জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার ‘আইবাস++’ এ প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ চলছে। ২০১৫ সালের পে স্কেল কার্যকরের সময় এ সফটওয়্যার ছিল না। এবার নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ায় আইবাস++-এ বেতন পুনর্নির্ধারণ (ফিক্সেশন) ও নতুন হিসাব কাঠামো যুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইতিমধ্যে অবসরে যাওয়া সোয়া ৯ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য এবং পেনশনের স্তর সমন্বয়ের কাজ চলছে।




