তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচির আগেই ফের আটক অভিজিৎ দীপকে

Published: October 16, 2026, 1:06 pm

দিল্লিতে প্রস্তাবিত 'লেহরা দো তিরঙ্গা' বা তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে গত শনিবার মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লিতে নামার পরপরই তাকে আটক করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দীপকে তার গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, তিনি কারাগারে যেতেও প্রস্তুত।

আটকের আগে, শুক্রবার দুপুরে দিল্লি পুলিশ তার নয়াদিল্লির বাড়িতে গিয়ে মিছিল বের না করার বার্তা দেয়। এ সময় ধারণকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কাঁধে ছোট জাতীয় পতাকা জড়িয়ে সোফায় বসে থাকা দীপকে পুলিশকর্মীকে প্রশ্ন করছেন, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ তাকে যে নোটিশটি পড়ে শোনায়, তাতে বলা হয়—তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষকে বেআইনিভাবে উসকানি দিচ্ছেন। এর জবাবে দীপকে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তিনি সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন এমন একটি ভিডিও দেখাতে। তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বরং আমাকে ফাঁসিই দিয়ে দিন না।”

পুলিশ তাকে জানায় যে, তেরঙ্গা পতাকা বহন করা আইনত অপরাধ নয়, তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল বা জমায়েত করা বিধিনিষেধের লঙ্ঘন। এছাড়া জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিয়েও তাকে সতর্ক করা হয়। সিজেপির এই কর্মসূচি ঠেকাতে সরকার কনটপ্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে ১১ জনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এদিকে, মানডি হাউসের কাছ থেকে মিছিল করার সময় আইসা নেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন সিজেপি ও বিরোধী ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতারা।

এই কর্মসূচিকে ঘিরে শুক্রবার দিল্লিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৬,০০০-এরও বেশি দিল্লি পুলিশ কর্মী, সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) ২২০টি কোম্পানি এবং বর্ধিত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক মোতায়েন করা হয়। কনট প্লেস, রাজীব চক, যন্তর মন্তর, পালিকা বাজার এবং নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনসহ সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

উল্লেখ্য যে, সিজেপির এই বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট জরুরি নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছিল। আদালতের বেঞ্চ জানায়, তারা আশা করে শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানায় যেন সাধারণ মানুষের কোনো অসুবিধা না হয়। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin