জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ৪৮৬ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র দুজন

Published: October 11, 2026, 3:18 am

সিলেটের জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক-সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। ৫৭ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৮৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন শিক্ষক। এর ফলে পাঠদানের প্রয়োজনীয় সুযোগ থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়টির সার্বিক চিত্র কতটা সংবেদনশীল তা পরিষ্কার হয় শ্রেণি কার্যক্রমের পর্যালোচনায়। চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রায় নয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে ক্লাস পায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে নিয়োজিত দুজন শিক্ষকের একজন ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক হলেও বাধ্য হয়ে তাঁকে অন্যান্য বিষয়ও পড়াতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে তাঁদের টানা পিরিয়ড নিতে হচ্ছে, এমনকি টিফিনের বিরতির সময়ও ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক মাধ্যমিক শিক্ষায় এভাবে একনাগাড়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে শিক্ষকদের পক্ষে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

জাতীয় শিক্ষানীতির নিয়ম অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরে গড়ে প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা। অথচ জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রতি ২৪৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। এ সংকট কাটাতে বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও অভিভাবকেরা নিজস্ব অর্থায়নে কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। তবে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য এটি স্থায়ী সমাধান নয়, বরং এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের মান ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের ওপর তৈরি হচ্ছে বাড়তি খরচের বোঝা।

অভিভাবকদের মতে, সিলেট শহর থেকে দূরবর্তী হওয়ায় অনেক শিক্ষকই এই বিদ্যালয়ে যোগদানে আগ্রহী হন না। চাকরির শুরুতে প্রথম পদায়ন হিসেবে এখানে পাঠানো হলেও শিক্ষকেরা তদবির চালিয়ে দ্রুত স্থানান্তরিত হন। চলতি বছরই এই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন শিক্ষক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এতে প্রমাণ হয় যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বদলি প্রক্রিয়া অন্যায্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত। জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে দ্রুত সময়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি মাউশিকে এই অসম নীতি পরিবর্তন করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo