দৌলতপুরে মাদ্রাসাশিক্ষককে গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে গিয়ে ওসিসহ ৩ পুলিশ আহত

Published: October 9, 2026, 12:45 pm

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতার মারধরের শিকার অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমানসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের মালিথাপাড়া এলাকায় অবস্থিত মার্কাজুল মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আশিকুল্লাহ (৪০)। তিনি যশোরের বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া এলাকার মৃত ক্বারী এনামুল্লাহর ছেলে। আশিকুল্লাহ ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আজম হোসেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে থানায় রয়েছেন। আজ শুক্রবার দৌলতপুর থানার ওসি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মার্কাজুল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন (বলাৎকার) করে আসছিলেন শিক্ষক আশিকুল্লাহ। এ বিষয়ে কাউকে কিছু বললে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দিতেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ওই শিক্ষকের বাসায় গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে মারধর শুরু করেন।

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচিয়ে থানায় আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসি আরও বলেন, প্রথমে একজন ছাত্রকে বলাৎকারের কথা শুনলেও পরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগের কথা জানা গেছে। তবে ঘটনার সময় উত্তেজিত জনতার হাত থেকে শিক্ষককে বাঁচানোই পুলিশের মূল লক্ষ্য ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy