চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে তীব্র প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন

Published: October 5, 2026, 5:22 am

চাঁদে স্থায়ী মানববসতি স্থাপন এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বের প্রধান তিন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। মহাকাশে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং ভবিষ্যৎ মিশনে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসানোর তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে দেশগুলোর মধ্যে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘লুনার রিঅ্যাক্টর-১’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসানো হবে, যা কোনো প্রকার রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকবে। এদিকে, মস্কো ও বেইজিং যৌথভাবে ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৬ সালের মধ্যে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই চুল্লিটি বসানো হবে, যা টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

চাঁদে সৌরশক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা চালানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ সেখানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অন্ধকার ও চরম শীত বিরাজ করে। এই প্রতিকূল পরিবেশে স্থায়ী ঘাঁটির উষ্ণতা ও বিদ্যুৎ বজায় রাখতে পরমাণু শক্তির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এই তাড়াহুড়ো নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রকেট উৎক্ষেপণের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশে বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন তারা। এছাড়া চাঁদের মতো চরম পরিবেশে চুল্লিগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করাও প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কঠিন।

এই প্রকল্পগুলোকে ঘিরে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী, কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। কিন্তু পারমাণবিক সুরক্ষার দোহাই দিয়ে যদি কোনো দেশ তাদের চুল্লির চারপাশে ‘নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করে, তবে তা অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে, যা মহাকাশে নতুন করে বিভাজন সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin