ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের সপ্তম বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন। ‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: পুষ্টি খাতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সম্মেলনের প্লেনারি অধিবেশনে তিনি বিচ্ছিন্ন পুষ্টি প্রকল্পের পরিবর্তে জাতীয় মালিকানায়, সরকারের নেতৃত্বে এবং দেশীয় অর্থায়নে বহুখাতভিত্তিক সমন্বিত পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
ড. হায়দার বলেন, পুষ্টির উন্নয়নে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, টেকসই অর্থায়ন এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। তিনি একই ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে পর্যাপ্ত পরিসরে সমন্বিত পুষ্টিসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৪ শতাংশ শিশু এখনো খর্বকায়ত্বে (স্টান্টিং) ভুগছে এবং মাতৃ অপুষ্টি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ও কর্মপরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত রাজনৈতিক কর্তৃত্ব, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়নের অভাবে বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে তিনি জানান। তিনি জাতীয় পুষ্টি অগ্রাধিকারগুলোকে সরাসরি সরকারের মূল পরিকল্পনা ও বাজেট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। ড. হায়দার বলেন, নতুন কমিটি গঠন কিংবা বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিবর্তে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে এবং সুশাসন ও পরিচালনব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে হবে।
এ লক্ষ্যে তিনি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক তত্ত্বাবধান, দেশীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি, পুষ্টিঝুঁকির ভিত্তিতে ভৌগোলিক এলাকা নির্ধারণ এবং স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন (ডব্লিউএএসএইচ) ও সামাজিক সুরক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের যৌথ জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পুষ্টিসেবা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় রূপান্তরের কাজ করছে।
প্লেনারি অধিবেশনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (জিএআইএন) মুদুদুজি এমবুয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) ডিয়ানা ওলনি। অধিবেশনে তানজানিয়া, বিশ্বব্যাংক, এফএও, গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব নিউট্রিশনাল সায়েন্সেসের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। সবশেষে ড. হায়দার জোর দিয়ে বলেন, বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে কার্যক্রম পরিচালনার মূল পদ্ধতিতে পরিণত করতে হবে।





