আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মানব পাচারকে অমানবিক ও নিষ্ঠুর অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্ত্রী বলেন, অপরাধী ও মাফিয়ারা এই প্রক্রিয়ায় মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মানব পাচার রোধে আইন সংশোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পাচারের সংজ্ঞাকে আরও বাস্তবসম্মত করা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মানব পাচার আইনের অধীনে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১৮৮৭ সালের জুয়া আইন সংশোধন করে অনলাইন জুয়া ও এ জাতীয় অবৈধ কার্যক্রমকেও আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানব পাচার বিষয়ক প্রোটোকল অনুসমর্থন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, মানব পাচার আগের তুলনায় কমে এলেও এটি এখনো একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, দেশের বেকারত্ব সমস্যার কারণে মানুষ জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে বিদেশে গিয়ে অবৈধ অভিবাসী হয়ে পড়ছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সক্ষমতা বাড়াতে জনবল সংকট, উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযোগকারীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ বিষয়ে যেকোনো গঠনমূলক সুপারিশকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানান তিনি। আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে।





