ইউএনআরডব্লিউএ নিয়ে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সিদ্ধান্তকে ‘ইসরায়েলপন্থী’ বলল হামাস

Published: September 27, 2026, 5:03 am

গাজায় জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-র (UNRWA) সঙ্গে কাজ না করার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম শনিবার এক বিবৃতিতে এই অবস্থানকে সরাসরি ‘ইসরায়েলপন্থী’ এবং ইসরায়েলের নীতি ও অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এর উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ব্যাহত করা।

এর আগে গত শুক্রবার বোর্ড অব পিস একটি বিবৃতিতে জানায়, গাজায় ইউএনআরডব্লিউএ-র সম্পৃক্ততার বিষয়ে তাদের আগের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সংস্থাটি কেবল এমন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, যারা গাজার মানুষের জন্য কার্যকর অবদান রাখতে পারবে এবং অঞ্চলটিকে উগ্রপন্থামুক্ত করতে ভূমিকা রাখবে। বোর্ডের দাবি অনুযায়ী, ইউএনআরডব্লিউএ এই মানদণ্ডগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বোর্ডের এমন দাবির জবাবে হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানতে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে না পারাটাই বোর্ড অব পিসের অবস্থানকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাজায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো হলেও এ বিষয়ে বোর্ডের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউএনআরডব্লিউএ ফিলিস্তিনি refugees-দের জন্য খাদ্যসহায়তা, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা দিয়ে আসছে। ফিলিস্তিনিদের কাছে এটি তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অন্যদিকে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই সংস্থাটি বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একটি প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশ্যে বোর্ড অব পিসের অবস্থান কঠোর দেখা গেলেও পর্দার আড়ালে তাদের সদস্যরা ইউএনআরডব্লিউএ-র সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গত বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বোর্ডের একটি ব্রিফিংয়ে বেশ কয়েকটি জাতিসংঘ সংস্থাকে অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সেখানে ইউএনআরডব্লিউএ-র নাম এড়ানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের এক কর্মকর্তা এপিকে জানান, সদস্যরা ইউএনআরডব্লিউএ-র কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন এবং গাজার বাসিন্দাদের উপকারে আসলে সংস্থাটির কিছু কার্যক্রম চালু রাখা হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, 'ইউএনআরডব্লিউএ-র সময় শেষ।'

এদিকে, চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত ইউএনআরডব্লিউএ-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফিলিপ লাজারিনি এপিকে জানান, বোর্ড অব পিসের নিয়োগ করা গাজা পরিচালনাকারী ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির সদস্যরা এই সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তবে গত বৃহস্পতিবার লাজারিনি বোর্ড অব পিসের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো গাজায় মৌলিক মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, যা গাজাকে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অনুপযোগী করে তোলার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। তিনি গাজার সীমান্তপথগুলো খুলে দিয়ে ব্যাপক হারে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় অবস্থিত বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যখন চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি ভবনে তল্লাশি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া তুলকারেমে শুওয়েইকা এলাকায় বাড়ি থেকে বাশার ওদেহ নামের এক বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে এবং জেইতায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বেথলেহেম গভর্নরেটের পশ্চিমাঞ্চলীয় কয়েকটি গ্রামের প্রবেশপথে সামরিক ফটক বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কালানদিয়া ও আমারি শরণার্থীশিবিরসহ পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকাতেও ইসরায়েলি বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy