বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহত, মামলায় অভিযুক্ত চালক পলাতক

Published: September 23, 2026, 11:28 am

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেট কারের চাপায় মেহেদী হাসান (২৪) নামের এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী হাসানের গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে মেহেদীকে চাপা দেয়। আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেছেন।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায়, ফুটপাতে মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর গাড়িটি একটি সড়কবাতির পোস্টে ধাক্কা খেয়ে থামে। এরপর গাড়ির ডান দিকের চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোরকে নামতে দেখা যায়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, ওই কিশোরকে মবের হাত থেকে রক্ষা করতে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী এবং তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি ওই কিশোরের মায়ের নামে নিবন্ধিত।

এদিকে, করা মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে চালক হিসেবে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আকাশ মারক ঘটনার পর থেকেই পলাতক। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন জানান, মামলার এজাহারে আকাশ মারকের নাম উল্লেখ থাকায় তাকেই আসামি করা হয়েছে। তবে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo