রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

Published: September 23, 2026, 10:21 am

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পর এবার রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্মানি ও ভাতা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করার লক্ষ্যে এই বিষয়টি সামনে এসেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতের নিয়ম অনুসরণ করে এই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে, যদিও বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। অনেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মনে করছেন, দেশের এমন ক্রাইসিস মুহূর্তে এ ধরনের উদ্যোগ জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে। লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন জানান, বর্তমান সম্মানি অপ্রতুল হলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ নিয়ে তাদের কোনো দাবি বা আপত্তি নেই। তবে সরকারপ্রধান কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা মেনে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও বিধি অনুবিভাগ) শামীম সোহেল জানিয়েছেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত এলে ‘রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট’ সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অপর এক কর্মকর্তা জানান, সচিবদের বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্মানিও বাড়ানো হবে এবং এ নিয়ে কাজ শুরু হবে।

নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী একজন সচিবের মূল বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। অথচ ২০১৬ সালের দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। ফলে বর্তমান কাঠামোতে সচিবদের মূল বেতন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বেশি। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সম্মানিও সচিবদের তুলনায় কমে গেছে। তবে এই সম্মানির বাইরে আবাসন, পরিবহন ও চিকিৎসার মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধাও যুক্ত থাকে।

সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের সম্মানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারি আদেশের সুযোগ নেই। তাদের বেতন ও ভাতা নির্ধারিত হয় সুনির্দিষ্ট আইন বা আদেশের মাধ্যমে এবং তা পরিবর্তনের জন্য জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হয়। এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের পর ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির সম্মানি এক লাখ ২০ হাজার টাকা, প্রধানমন্ত্রীর এক লাখ ১৫ হাজার টাকা, মন্ত্রীদের এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রীদের ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রীদের ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছিল। সে সময় সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয় ৫৫ হাজার টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি পুনর্নির্ধারণে রাষ্ট্রের আর্থিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৩২আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ০২

সংসদ সদস্যদের বেতন ও ভাতা নির্ধারিত হয় ‘সংসদ সদস্য (পারিতোষিক ও ভাতাদি) আদেশ, ১৯৭৩’-এর আওতায়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সম্মানি ও বিশেষাধিকার নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh