আয়কর রিটার্নে কাদের সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক?

Published: October 18, 2026, 3:01 am

আয়কর রিটার্ন জমার সময় করদাতাদের নিজের সম্পদের বিবরণী বা আইটি ১০বি (২০২৩) ফরম পূরণ করতে হয়। কর কর্মকর্তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো করদাতার আয়ের সাথে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই করা। তবে সব করদাতার জন্য এই সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়; মূলত যাদের সম্পদের পরিমাণ বেশি, তাদের জন্যই এটি প্রযোজ্য।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তিন ধরনের করদাতার জন্য সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। প্রথমত, সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক। তারা যে গ্রেডেই কর্মরত থাকুন না কেন, প্রতিবছর রিটার্ন জমার সময় তাদের সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধি কর কর্মকর্তাদের জানাতে হয়।

দ্বিতীয়ত, যদি কোনো করদাতার দেশে বা বিদেশে অবস্থিত মোট সম্পদের মূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে তাকে অবশ্যই সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে বাড়ি, প্লট বা অ্যাপার্টমেন্টের মতো স্থাবর সম্পদের বাজারদর হিসাব করতে হবে। মালিকানা অর্জনের সময় বা ক্রয়ের সময় যে বাজারদর ছিল, সেটিই এখানে বিবেচ্য।

তৃতীয়ত, যাদের মোট সম্পদের মূল্য ৫০ লাখ টাকার কম, তাদের ক্ষেত্রেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সম্পদ বিবরণী দেওয়া আবশ্যক। আয়বর্ষের যেকোনো সময় মোটরযানের মালিকানা থাকলে, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গৃহসম্পত্তি বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ থাকলে, বিদেশে কোনো সম্পদের মালিক হলে অথবা কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা পরিচালক হলে তাকে সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হবে।

আয়কর ১০বি ফরমে করদাতাকে তার যাবতীয় সম্পদের তথ্য প্রদান করতে হয়। অনলাইনে রিটার্ন জমার সময় এই ফরমটি পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত ব্যবসার সম্পদ, দায় ও মূলধন, শেয়ার ও অংশীদারি বিনিয়োগ, অকৃষি ও কৃষিজমি, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, বন্ড, ঋণ প্রদান, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মোটরযান, অলংকার, আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ। এছাড়া বিদেশে কোনো সম্পদ থাকলে তাও জানাতে হবে। সবশেষে, টাকার অঙ্কে সম্পদের যোগফল লিখে করদাতার নাম, স্বাক্ষর ও তারিখসহ ঘোষণা প্রদান করতে হয়।

আয়কর রিটার্নের আইটি ১০বি (২০২৩) ফরমটি করদাতার পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর তথ্যের জন্য দেওয়া হয়।.১.

কারণ, সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সম্পদ বাড়ল না কমল, তা দেখতে চান কর কর্মকর্তারা।২.

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo