চলমান ওডিআই ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্য প্যানেল থেকে ইংল্যান্ডের দুই সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটন ও নাসের হুসেইনকে বাদ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কারাবন্দী সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলের বিতর্কিত এক সাক্ষাৎকার প্রচার করার জেরে বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ঘোষিত পিসিবির ছয় সদস্যের ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় এই দুজন অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকারের নাম রাখা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের শুরুর দিকে ইংল্যান্ড সফরকালে। লর্ডসে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচ চলাকালে স্কাই স্পোর্টসে ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খানের সাক্ষাৎকারটি নেন মাইকেল আথারটন। সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের পরপরই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সে সময় প্রতিবাদ জানিয়ে দিনের বিকেলের সেশনে পাকিস্তান দল মাঠে নামাবে না বলে পিসিবি হুমকি দিয়েছিল বলে খবরে প্রকাশ পায়। এর পাশাপাশি সম্প্রচারকারী সংস্থা স্কাই স্পোর্টসের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা দেয় পিসিবি। তবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি দেশের ভেতরে এটি প্রচার করা থেকে বিরত থাকে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ পাকিস্তান সফরেও এই ধারাভাষ্য প্যানেলে ছিলেন আথারটন ও হুসেইন।
মাইকেল আথারটনকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইমরানের দুই ছেলে অভিযোগ তোলেন যে, তাদের বাবাকে অবহেলা ও চরম একাকিত্বের মধ্যে রাখা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ 'প্রকাশ্যেই তাকে হত্যার চেষ্টা করছে'। ইমরান খান ও জেমিমা গোল্ডস্মিথের দ্বিতীয় সন্তান কাসিম খান বলেন, কারাগারে ইতিমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তান সরকার তাদের বাবাকেও একইভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার ছক কষছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কাসিম ও সুলাইমানের দাবি অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় একটি ছোট কক্ষে একাকী বন্দী থাকেন। এছাড়া 'কারিগরী কারণ' দেখিয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে যাওয়ার ভিসাও দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে ইমরানের ছেলেদের আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইমরানের স্বজন, আইনজীবী বা চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। এদিকে ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় সাবেক এই ক্রিকেটারের দৃষ্টিশক্তির ৭৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন দেশটির বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার।





