প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ১৫আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১: ২১। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতালির মিলানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে রূপ নেওয়ায় সেখানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের ওপর এসব হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। আগামী শনিবার আরও বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে।
মেলোনির সরকার বেশ কিছু নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভে সহিংস অংশগ্রহণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, দাঙ্গাকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত সন্তানের কর্মকাণ্ডের জন্য অভিভাবকদের আর্থিকভাবে দায়বদ্ধ করার ব্যবস্থা।
মিলানের ক্যাথেড্রালসংলগ্ন এলাকায় সপ্তাহান্তে মুখোশধারী তরুণেরা ময়লার পাত্রে আগুন দেন, দোকানপাটে লুটপাট চালান এবং বিভিন্ন স্থাপনার জানালা ভাঙচুর করেন। গ্যালেরিয়া ভিত্তোরিও এমানুয়েলে দ্বিতীয় বিপণিবিতানের চ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো ব্র্যান্ডগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পণ্য সরিয়ে নেয়। পুলিশ ২৭১ জন তরুণকে আটক করেছে, যার মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক। আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, সরকার অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রাকচালকদের সড়ক অবরোধের ঘটনায়ও শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘১৭ অক্টোবর’ নামে একটি নতুন আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যারা ‘চোরদের এই সরকার’ পতন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি শনিবার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সে শনিবারের সংঘর্ষের ছবি—যার মধ্যে দোকানপাটে লুটপাট এবং সরকারি ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে—বিভিন্ন দেশকে উদ্বিগ্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সহিংস অস্থিরতার ঘটনায় ফ্রান্সে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী শনিবারের বিক্ষোভের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। এছাড়া প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পর্তুগালের লিসবনে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে এবং আলবেনিয়ার তিরানায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।





