একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে ওঠার মূল ভিত্তি হলো সুষম সম্পদ বণ্টন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি সমাজ মূলত একটি মিশ্র অর্থ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রেও মহান আল্লাহর বিশেষ রহস্য নিহিত রয়েছে।
পৃথিবীর শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আল্লাহতায়ালা মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি মানুষের অন্তর পর্যবেক্ষণ করেন এবং সম্পদ বা দারিদ্র্যের মাধ্যমে বান্দাদের পরীক্ষা করেন। পবিত্র কোরআনে সুরা শুরায় বলা হয়েছে, 'আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে রুজিতে প্রাচুর্য দিলে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে সে পরিমাণই দিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদের সম্যক জানেন, দেখেন।' (সুরা শুরা : ২৭)।
বর্তমানে পৃথিবীতে বিদ্যমান আর্থিক বৈষম্যের প্রধান কারণ হলো মানবতার অভাব। অর্থের প্রাচুর্য অনেক সময় মানুষের মধ্যে ভোগবিলাস, অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ এবং কৃপণতা তৈরি করে, যা মানুষকে হিংস্র ও পশুসুলভ করে তোলে। এই অহংকার নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দের পার্থক্য করার জন্য আল্লাহতায়ালা জাকাত ও ফিতরার বিধান নাজিল করেছেন।
বর্তমানে বিশ্বের আটশো কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র আটজনের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ কুক্ষিগত, তা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষের মোট সম্পদের সমান। এসব ধনাঢ্য ব্যক্তি চাইলে একটি রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম, কিন্তু তারা তা করেন না, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী অসহায় ও গরিবদের মাঝে নিজের কিছু সম্পদ বিলিয়ে দিলে সমাজে শান্তি ও ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং প্রকৃত উন্নতি ত্বরান্বিত হবে।





