আসামে উচ্ছেদ অভিযানে বাস্তুচ্যুত ১১০০ মুসলিম পরিবার, ভাঙা হলো ১০ মসজিদ

Published: October 23, 2026, 3:38 am

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের তিন জেলায় টানা দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় এই অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানের সময় ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলার অভিযোগও সামনে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিন ১৭ অক্টোবর মোট ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার ছিল। এরপর ১৮ অক্টোবর নগাঁও জেলার লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে দুই দিনে বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা এক হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং সেই সূত্রেই তারা ওই এলাকায় বসতি গড়ে তুলেছিলেন। অন্যদিকে, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে কয়েকজন গৌহাটি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলেও আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দেয়। এর আগে গত জুনে আদালত লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বসবাসকারীদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সময়সীমা পার হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

আবদুল নূর নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে, অভিযানের সময় ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি পাঁচ দশকেরও বেশি পুরোনো। তবে আসাম সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযানের উদ্দেশ্য হিসেবে সরকারি ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা এবং বনাঞ্চল রক্ষার কথা জানানো হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh