মিরপুরে সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী থানায় রুজু হওয়া এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে সাড়ে ১০ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মিরপুর থানায় ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর আক্রমণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে, যাতে ৩ হাজার অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে আজকেও কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সশ্লিষ্টদের পরিচয় যাচাই-বাছাই ও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে পল্লবী থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলার বাদী পুলিশ। সেখানে প্রতি মামলায় ২ হাজার থেকে ২৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে এবং এই তিন মামলায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তারা মূলত অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে জনমনে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছিল। ডিবি আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন, বরং আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে এসে জড়ো হয়েছিলেন।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে ও ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড় এলাকা দিয়ে শ্রমিকেরা পুনরায় সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সেখান থেকেও হটিয়ে দেয়।
এর আগে রোববার সকাল আটটা থেকে পোশাকশ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে আশেপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। দুপুরের দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা স্বার্থে মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল।
একই দাবিতে শনিবারও পোশাকশ্রমিকেরা মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।





