তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সচ্ছলতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। পাশাপাশি মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি নারী। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সামিট অন ইয়াং উইমেন’স এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও রূপকল্পের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি নীতিতে নারীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও অনুভূতির প্রতিফলন ঘটে। তিনি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কথা স্মরণ করে বলেন, নারী উন্নয়নে পৃথক মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কাজ করছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণ ও নারীদের মেধার বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতার অভাব দূর করতে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। তিনি মুখস্থনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের জন্য দেশব্যাপী ৩, ৬, ৯ মাস কিংবা ১ বছর মেয়াদি বিভিন্ন শর্ট কোর্স ও মাইক্রো ক্রেডিটের আধুনিক কারিগরি কোর্স চালু করা হচ্ছে। প্রবাসে কর্মসংস্থান বাড়াতে ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোতে বাজারচাহিদা অনুযায়ী বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাপানি, আরবি, ফরাসি, ইতালীয় ও কোরিয়ান ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, নারীরা যাতে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন, সেজন্য জামানতবিহীন স্বল্প সুদের ঋণ ও সিড ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ফিলিপাইনের মডেল অনুসরণ করে নার্সিং ও কেয়ারগিভিং খাতে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন জানান, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল টুর্নামেন্টে ১১ লাখ ছাত্র ও ১১ লাখ ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে, যা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। এছাড়া শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়াতে মিড ডে মিল, বিনামূল্যে পোশাক বিতরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একীভূত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া সভাপতিত্ব করেন। এতে ইউনিসেফের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শংকর, ‘আর্ন’ প্রকল্পের পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান উপস্থিত ছিলেন।





