রেমিট্যান্স শাটডাউনের হুমকি দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী: রুহুল কবির রিজভী

Published: October 9, 2026, 1:17 pm

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে চরম দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রেমিট্যান্স দেশের কোটি পরিবারের জীবন-জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রেমিট্যান্স বন্ধের চক্রান্ত দেশের মানুষকে ক্ষুধার্ত রাখার শামিল। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও ‘কমল কুঁড়ি’ যৌথভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর এই রচনা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সম্প্রতি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, যেকোনো অন্যায় বা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করা কিংবা সংবাদ সম্মেলন করা যেতে পারে। তবে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা বা অন্য কাউকে আক্রমণ করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে এবং রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’-এর মতো কর্মসূচি দিচ্ছে, তারা কখনোই জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করেনি। তিনি দাবি করেন, ১৯৭১, ১৯৮৬ কিংবা ২০২৪—বিভিন্ন সময়ে তারা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে, যেখানে বিএনপি সব সময় জনগণ ও দেশের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দিয়েছে।

ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব নিয়ে রিজভী বলেন, শুধু মিছিল ও স্লোগান দেওয়াই ছাত্ররাজনীতির কাজ নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে ভূমিকা রাখে। সুফি সাধক হাসান বসরীর উক্তি স্মরণ করে তিনি বলেন, অন্তরের যত্ন নিলে বাহ্যিক সত্তাও সুন্দর হয়ে ওঠে। এ সময় দার্শনিক ফ্রিডরিখ নিৎসের উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে কষ্ট ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে মেধা, জ্ঞান ও গণতন্ত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বারবার আন্দোলনের ব্যর্থতায় যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালের উত্তাল ছাত্র আন্দোলন তা ভুল প্রমাণ করেছে। তরুণদের সাহসিকতা ও অগ্রণী ভূমিকার কারণেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন সম্ভব হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কমল কুঁড়ির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন, স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin