জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বৈশ্বিক সংকট সমাধানে মানুষকে সমস্যা হিসেবে না দেখে বরং সমাধানের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনের সাইডলাইনে ‘সামাজিক ব্যবসা, যুবসমাজ ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ড. রহমান বলেন, মানুষই নতুন সমাধান তৈরির মূল চালিকাশক্তি, তাই তাদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, দক্ষতা ও সুযোগ প্রদান করা জরুরি।
বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কেবল তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বিশ্বকে দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে যুবসমাজকে কেবল অংশগ্রহণকারী হিসেবে না দেখে সমাজ পরিবর্তনের প্রকৃত নেতৃত্ব তাদের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ২০৩০ সালের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হাতে মাত্র চার বছর সময় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে সাধারণ মানুষ নিজেরাই কার্যকর ও উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করতে সক্ষম।
অনুষ্ঠানে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান বিশ্বের কূটনীতি ও সামাজিক ব্যবসার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব কূটনীতিতে শব্দের প্রকৃত অর্থ হারিয়ে যাচ্ছে, যা যুদ্ধ ও শান্তির মতো মৌলিক ধারণায় বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন শব্দের স্পষ্টতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।
ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ টেনে ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত ‘গ্রামীণ আমেরিকা’ কর্মসূচির উদাহরণ দেন। ২০০৮ সালে নিউইয়র্কে ৫০০ ডলার ঋণ দেওয়ার সীমা নিয়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের হার প্রায় শতভাগ। তিনি জানান, সামাজিক ব্যবসা মুনাফাকেন্দ্রিক না হয়ে মানুষের সমস্যা সমাধানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার আওতায় ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রামীণ ফোনের মাধ্যমে দূরবর্তী চিকিৎসাসেবা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ চক্ষু হাসপাতাল নেটওয়ার্কের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে মূলত চাকরিপ্রত্যাশী করে তোলে, অথচ মানুষ জন্মগতভাবেই উদ্যোক্তা। আগামী ডিসেম্বরে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার লক্ষ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় তরুণদের শুধু সনদের পেছনে না ছুটে সরাসরি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করবে। পরিশেষে তিনি দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও নেট কার্বন নিঃসরণমুক্ত পৃথিবী গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২৫আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ১৬





